• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৬ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
ভোটের দিনে লিফলেট বিতরণের দায়ে জামায়াত নেতার অর্থদন্ড নীলসাগর ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস: স্ট্রোকের ঝুঁকি, রিহ্যাবের সংকট ও পুনর্বাসনে সচেতনতার আহ্বান তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার হত্যা মামলায় মাগুরার সাবেক ওসি ও এসআই জেলহাজতে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ৯ কর্মকর্তা প্রত্যাহার সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জলঢাকা পৌরসভার সাবেক মেয়র গ্রেপ্তার রানীরবন্দরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ব্যবসায়ী নিহত “ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি

মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনির পাথরের বিক্রি বেড়েছে

Parbatipur_(Dinajpur)Photo_05.11.2015পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : পার্বতীপুর মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনির পাথরের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতা ও বিক্রি বেড়েছে। ফলে খনিটির উজ্জল ভবিষ্যতের সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। দেশের বৃহৎ এবং একমাত্র পাথর খনি দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানী লিমিটেড। ১৯৯৫ সাল থেকে খনিটির উন্নয়ন কাজ শুরু হয়ে ২০০৭ সালে বানিজ্যিক উৎপাদন শুরু থেকে খনিটি লাভের মুখ দেখতে পারেনি। এই সময়ে খনিটির প্রায় ১শ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।
খনি সুত্র জানায়, সরকার দেশের নির্মানাধীন পদ্মা বহুমুখী সেতু, কর্নফুলি নদীর তলদেশে ট্যানেল নির্মান, ঢাকা এভিলিয়েটর এক্সপ্রেসসহ মেগা প্রকল্প গুলোতে রেলওয়েসহ সরকারী নির্মান কাজে মধ্যপাড়া পাথর খনির পাথর ব্যবহার বাধ্যতামুলক করায় পাথরের চাহিদা বেড়ে যায় এবং বিক্রিও বেড়ে গেছে। এছাড়া দেশের বেসরকারী নির্মানকাজেও মধ্যপাড়ার পাথর ব্যবহার করার আগ্রহ বেড়েছে। বর্তমানে পাথর বিক্রি বেড়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার মেট্রিক টন পাথর বিক্রি হচ্ছে।
জানা গেছে, খনিটির উৎপাদন এবং ব্যবস্থাপনা বেসরকারী কোম্পানী জার্মানিয়া-ট্রেষ্ট কনসোর্টিয়ামে (জিটিসি) এর হাতে দেওয়ার পর প্রায় দেড় বছরে প্রতিদিন তিন শিফটে গড়ে ৪ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন হওয়ায় পাথরের মজুদ ইতিপুর্বের কয়েক বছরের উৎপাদনের রেকর্ড ভঙ্গ করে। ফলে ক্রেতারা মধ্যপাড়ার পাথর কিনতে আগ্রহী হয়ে উঠেন। পাথরের বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিন খনিতে পাথর পরিবহনে প্রায় দেড়শত ট্রাক চলাচল করায় খনি এলাকায় ট্রাকের ড্রাইভার, হেলপারসহ ডিলারের প্রতিনিধি এবং  ট্রাক বন্দোবস্তকারী অফিসের কর্মীদের পদভারে মুখরিত এখন খনি এলাকা। এখানে যেন তৈরী হয়েছে উৎসব মুখর পরিবেশ। খনি গেটের বাইরে অবস্থিত দোকানগুলোতে সারাদিন চলছে ক্রেতাদের ভিড়। সকল দোকানে বিক্রিও বেড়েছে। ট্রাক বন্দোবস্তকারী অফিসগুলোর কর্মীদের ব্যস্ততা বেড়েছে। চাহিদামত ট্রাক পাওয়া গেলে আরো ট্রাক খনিতে আসতো এবং সরবরাহ আরো বাড়তো বলে ট্রাক বন্দোবস্তকারী অফিসগুলো বলছে।
খনির একটি সুত্র  জানায়, পাথর খনির উন্নয়ন এবং উৎপাদন বাড়াতে ভু-গর্ভে নতুন ষ্টোপ নির্মান (শিলা উৎপাদন ইউনিট) এর জন্য বিদেশী ভারী যন্ত্রপাতি এবং যন্ত্রাংশের অভাবে গত প্রায় তিন মাস ধরে খনির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ইতিমধ্যে সরকার খনি উন্নয়নে ১ শ কোটি টাকা ঋন বরাদ্দ দিলে বিদেশী আধুনীক যন্ত্রপাতি আামদানীর জন্য খনি কর্তৃপক্ষ এলসি খুলেছে। এইসব যন্ত্রপাতি খনিতে পৌছা মাত্রই খনির উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হবে। বর্তমানে খনিতে পাথরের যে মজুদ রয়েছে বিক্রির এই ধারা অব্যাহত থাকলেও পাথরের এই মজুদ শেষ হতে আরো ৪/৫ মাস সময় লাগবে।
এই সময়ের পুর্বেই আবার পুরোদমে পাথর উত্তোলন শুরু হবে বলে তারা আশা করছেন। তাই পাথরের সংকট হবে না বলেও তারা মনে করছেন। বর্তমানে খনির ইয়ার্ডে প্রায় সাড়ে ৪লাখ মেট্রিক টন পাথর মজুদ রয়েছে। সরকার মধ্যপাড়া পাথর খনিটিকে লোকসানের হাত থেকে বাচাঁতে ২০০১৩ ইং সালের ২ সেপ্টেম্বর বেলারুশ সরকারের একটি কোম্পানীর সাথে দেশীয় কোম্পানীর যৌথভাবে প্রতিষ্টিত জার্মানিয়া-ট্রেষ্ট কনসোর্টিয়ামে (জিটিসি) সাথে ৬ বছর মেয়াদে উৎপাদন, রক্ষানাবেক্ষন এবং ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা চুক্তি করে। জিটিসি এই চুক্তির মেয়াদে ৯২ লক্ষ মেট্রিক টন পাথর উত্তোলনের লক্ষ নিয়ে গত ২০১৪ ইং সালের ২৪ ফেব্র“য়ারী তাদের ব্যবস্থাপনায় পাথর উত্তোলন শুরু করে ৬ মাসের মধ্যে খনির আকাংখিত তিন শিফট চালু করে প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ